রতন টাটার বিয়ে না করার কারণ ও জীবনের নানা দিক

রতন টাটার বিয়ে না করার কারণ ও জীবনের নানা দিক

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি রতন টাটা। তাঁর অসাধারণ ব্যবসায়িক সফলতার পিছনে রয়েছে টাটা গ্রুপের ১৫৬ বছরের ঐতিহ্য এবং তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানিটির আয় বেড়েছিল ৪০ গুণ। ১৯৯০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রতন টাটা। এরপর ২০১৬-১৭ সালের দিকে টাটা গ্রুপের অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। সর্বশেষ তিনি টাটা ট্রাস্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রতন টাটার পারিবারিক জীবনে কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর বাবা নাভাল টাটা ছিলেন দত্তক সন্তান, এবং তাঁর জন্ম হয় নাভালের প্রথম স্ত্রীর সন্তান হিসেবে। মাত্র ১০ বছর বয়সে রতন টাটার বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর তিনি এবং তাঁর ছোট ভাই জিমি টাটা তাদের দাদির কাছে বেড়ে ওঠেন। এই সময়ের ঘটনা খুব একটা প্রকাশ্যে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না রতন টাটা। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ তার জীবনে মানসিক কষ্ট বয়ে এনেছিল, এবং অনেকে মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা রতন টাটার বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রতন টাটা এক মার্কিন তরুণীকে ভালোবেসেছিলেন, কিন্তু সেই সম্পর্কের পরিণতি হয়নি। ভারতে ফিরে এসে একাধিক সম্পর্ক গড়লেও, শেষ পর্যন্ত তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। অনেকেই মনে করেন, তার শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং পরিবারিক বিচ্ছেদই তাঁকে জীবনে কখনও বিয়ের দিকে ঠেলে দেয়নি।

রতন টাটা কুকুরের অনেক বড় ভক্ত ছিলেন। মুম্বাইয়ে টাটা গ্রুপের সদর দপ্তরে কুকুরদের জন্য আলাদা একটি ঘর ছিল, এবং সেখানে রতন টাটাকে প্রায়ই কুকুরদের সঙ্গে খেলতে দেখা যেত। তাঁর ইনস্টাগ্রামেও তাঁর চেয়ে অনেক বেশি কুকুরের ছবি পোস্ট করা হয়েছে।

দান করতে রতন টাটা বিশেষভাবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি রুপি দান করেছেন, এবং মহামারিকালীন সময়ে এক হাজার ৫০০ কোটি রুপি বিভিন্ন খাতে দান করেছেন। তাঁর মানবিকতার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ